বাজুসের দর আর বিশ্ববাজারের দরের মাঝে ফারাক

বাংলাদেশে স্বর্ণের স্থানীয় দর সবসময় বিশ্ববাজারের দর থেকে বেশি থাকে। এই ফারাকের কারণগুলো বোঝা জরুরি, কারণ এতে কর, শুল্ক, মার্জিন ও মুদ্রার প্রভাব মিশে থাকে। এই পাতায় বাজুসের ঘোষিত দর এবং বিশ্ববাজারের দর থেকে হিসাব করা স্থানীয় মূল্যের তুলনা দেখানো হয়েছে।
বাজুসের দাম বনাম বিশ্ববাজারের সোনা
ভরি, আনা ও গ্রামের বাজুস দর এবং একই ওজনের ২২ ক্যারেট সোনার বিশ্বদাম।
| ওজন, ২২ ক্যারেট | বাজুসের দর | বিশ্ববাজারে একই সোনা | পার্থক্য |
|---|---|---|---|
| ১ গ্রাম | ৳18,935 | ৳14,477 | ৳+4,458 |
| ১০ গ্রাম | ৳189,350 | ৳144,772 | ৳+44,578 |
| ১ আনা | ৳13,804 | ৳10,554 | ৳+3,250 |
| ১ ভরি | ৳220,858 | ৳168,862 | ৳+51,996 |
সর্বশেষ যাচাই: 03.11.2026
টেবিলে যা দেখছেন
উপরের টেবিলে বাজুসের ২২ ক্যারাট ভরি দর এবং বিশ্ববাজার থেকে আনা স্বর্ণের দাম স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে দেখানো হয়েছে। বিশ্ববাজারের দর ডলার প্রতি ট্রয় আউন্স হিসেবে একটি উৎস থেকে নেওয়া হয়, আর টাকার বিনিময় হার অন্য উৎস থেকে।
২২ ক্যারাটের তুলনার জন্য স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ধরা হয় ৯১.৬৭ শতাংশ। টেবিলে ফারাকটি শতাংশ বা টাকায় দেখানো হতে পারে। এই ফারাকের ভেতরে কী কী থাকে, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
ফারাকের ভেতরে কী থাকে
বাজুসের দরের মধ্যে ৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া আমদানি শুল্ক, ডিলার মার্জিন এবং জুয়েলার্সরা যে ডলার রেট ব্যবহার করেন, তার প্রভাবও থাকে। বিশ্ববাজারের দরের সঙ্গে এই খরচগুলো যোগ করলে স্থানীয় দর বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি হয়।
এছাড়া স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার তারতম্যও ফারাক বাড়াতে বা কমাতে পারে। যেমন চাহিদা বেশি হলে জুয়েলার্সরা দর কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারেন, যদিও বাজুসের ঘোষণা মেনে চলার কথা।
ভ্যাট ও শুল্কের ভূমিকা
বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক ও কর আরোপিত হয়। এই খরচ সরাসরি স্থানীয় দরে যোগ হয়। ভ্যাট ৫ শতাংশ, যা বাজুসের ঘোষিত দরের মধ্যেই থাকে। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে আরও শুল্ক আছে।
বিশ্ববাজারের দরের সঙ্গে এই কর-শুল্ক যোগ করলে স্থানীয় দর স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে। তবে কতটা বেশি হবে তা নির্ভর করে সরকারের নীতির ওপর।
ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব
বাংলাদেশ স্বর্ণ আমদানি করে ডলারে মূল্য পরিশোধ করে। তাই ডলারের দাম বাড়লে স্থানীয় স্বর্ণের দরও বাড়ে। বাজুস দর নির্ধারণের সময় একটি নির্দিষ্ট ডলার রেট ব্যবহার করে, যা বাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে।
এই রেটের পার্থক্যও ফারাকের একটি অংশ। এছাড়া ব্যাংক ও মানি চেঞ্জারের রেটের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
ফারাক কী নির্দেশ করে না
ফারাক দেখে মনে হতে পারে জুয়েলার্সরা অতিরিক্ত মুনাফা করছে, কিন্তু সবসময় তা নয়। ফারাকের বড় অংশই কর ও শুল্ক। এছাড়া ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি খরচ বেশি হতে পারে।
তবে ফারাক যদি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়, তাহলে বাজারে কারসাজি থাকতে পারে। বাজুসের দরের সঙ্গে বাস্তব লেনদেনের দরের পার্থক্যও লক্ষণীয়।
ক্রেতার জন্য এর অর্থ
আপনি যখন গয়না কিনবেন, তখন আপনাকে বাজুসের দরের ওপর মেকিং চার্জ ও ভ্যাট দিতে হবে। বিশ্ববাজারের চেয়ে স্থানীয় দর বেশি হওয়ায় আপনার খরচও বেশি হবে। তবে বিক্রির সময় আপনি যে দাম পাবেন, তা বাজুসের দরের চেয়ে কম হবে, কারণ জুয়েলার্সরা ওজন ও বিশুদ্ধতার ওপর ছাড় দেন।
তাই কেনার আগে বিশ্ববাজার ও স্থানীয় দরের সম্পর্ক বোঝা আপনাকে দর কষাকষিতে সাহায্য করতে পারে।
এক নজরে
আরও পড়ুন
আজকের দাম নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্ববাজারের দর কোথা থেকে নেওয়া হয়?
একটি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ডলার প্রতি ট্রয় আউন্স হিসেবে নেওয়া হয়। টাকার বিনিময় হার অন্য একটি উৎস থেকে নেওয়া হয়। দুটি উৎস একসঙ্গে মিলিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় বিশ্বমূল্য বের করা হয়।
ফারাক কি সবসময় একই থাকে?
না। ডলারের দাম, কর-শুল্কের হার, স্থানীয় চাহিদা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে ফারাক বদলায়। কখনো বেশি, কখনো কম হতে পারে।
ফারাকের মধ্যে কি মুনাফা থাকে?
হ্যাঁ, জুয়েলার্সদের মার্জিনও থাকে। তবে কর ও শুল্কই ফারাকের বড় অংশ। কোনো কোনো সময় মার্জিন বাড়ানো হতে পারে, তবে বাজুসের ঘোষণা সীমার মধ্যে থাকার কথা।
আমি কি বিশ্ববাজারের দরে স্বর্ণ কিনতে পারি?
সাধারণত না। কারণ আমদানি খরচ, কর ও শুল্ক যোগ হয়ে স্থানীয় দর তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে ভিন্ন উপায় আছে, যেমন CFD অ্যাকাউন্ট।
ফারাক কি কমতে পারে?
সম্ভব। যদি সরকার কর-শুল্ক কমায় বা ডলারের দাম কমে, তাহলে ফারাক কমতে পারে। বিশ্ববাজারের দরও প্রভাব ফেলে।
FxPro-তে একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলুন
স্বর্ণের দর উঠানামায় অংশ নিতে চাইলে আন্তর্জাতিক ব্রোকার FxPro-তে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এটি কোনো ধাতু ডেলিভারি করে না; স্বর্ণের দরকে চুক্তি (CFD) হিসেবে কোট করা হয়। অ্যাকাউন্ট খুলতে পরিচয় যাচাই লাগে এবং সময় লাগে এক-দুই দিন।